
টাঙ্গাইল ও কুমিল্লায় পৃথক ট্রেন ও সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পন্টুন থেকে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় রেশ কাটতে না কাটতেই টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ার ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একইদিন কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ শনিবার (২৮ মার্চ) এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, "টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর নামক স্থানে গতকাল রাত আটটার দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে একটি দ্রুতগামী বাস প্রাইভেটকারকে চাপা দিলে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাবা-মা ও দুই সন্তান রয়েছেন।"
শোকবার্তায় আরও বলা হয়েছে, "একই দিনে রাঙামাটির সাপছড়িতে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীবোঝাই বাস উল্টে অন্তত ৩০ জন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হৃদয়বিদারক।"
নেতৃবৃন্দ বলেন, "সড়কগুলো যেন আজ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। যাত্রাপথে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। বিশেষ করে ঈদের সময় মহাসড়কগুলো যেন মৃত্যুফাঁদে রূপ নেয়। এবারের ঈদযাত্রায় তিন শতাধিক মানুষের জীবন দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় এই চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই দায়ী। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। আমরা সরকারের প্রতি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ জনগণ ও চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।"
পরিশেষে, নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের শাহাদাত কবুলিয়াতের দোয়া করেছেন। তাঁরা দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।



