ডাকসু
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।ছবি: আরটিএনএন

জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৭ ডিসেম্বর এই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। সেই শূন্য পদেই বর্তমানে অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ নিয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। 

এ ঘটনায় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট গোলাম রাব্বানির অব্যহতি ও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

রোববার (১১জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ চিঠি দেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেন। এরপর ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী ড. গোলাম রাব্বানিকে আমরা দেখতে পাই। যা  শিক্ষার্থীদের একইসাথে বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ করেছে।

দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় তিনি ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ৫ এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দীর্ঘ এই ছয় বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। সরাসরি তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, জুলাই গণহত্যার সমর্থনে মিছিল করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে খুনী হাসিনার পাশাপাশি তার নামেও একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে।

এ মতাবস্থায় বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্বগ্রহণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই আমরা ডাকসু থেকে শিক্ষক এবং চেয়ারম্যান হিসেবে তার অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যত ফ্যাসিস্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে তাদের প্রত্যেককে চাকরি থেকে অব্যহতি দিয়ে বিচারে মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ফ্যাসিবাদের দোসর গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা না হয় তাহলে উদ্ভূত যেকোনো প্রীতিকর বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।