ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন।সংগৃহীত

প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করা হলেও এবার ছিল ভিন্ন চিত্র। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই ব্যক্তিগত পরিসরে 'থার্টি ফার্স্ট নাইট' উদযাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রাষ্ট্রীয় শোক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি ফোটানো হলেও এর ব্যতিক্রম ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। টিএসসি কিংবা আবাসিক হলগুলোতে কোথাও ফোটানো হয়নি কোনো আতশবাজি, উড়ানো হয়নি ফানুসও। 
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষিত শোক দিবসের কারণে ডাকসু কিংবা কোনো ছাত্রসংগঠনও এবার নববর্ষ উপলক্ষে কোনো আয়োজন রাখেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়েছে প্রশাসন। 

তবে,রাত নয়টার পর থেকে বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রাত নয়টার আগেই কেউ কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

 প্রতিবছর ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাত বারোটায় টিএসসিতে বিকট শব্দে আতশবাজি ফোটানো ও ফানুস ওড়ানোর ঘটনা ঘটলেও এবার পুরো এলাকা ছিল নিস্তব্ধ। রাত বারোটায় কিছু শিক্ষার্থী টিএসসিতে জড়ো হলেও কেউ কোনো আতশবাজি ফোটাননি। পাশেই সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশের একটি দল।

 শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিসরে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে ও বন্ধুদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় করে নতুন বছর উদযাপন করতে দেখা গেছে। তবে কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে ছিল না কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন। 

ক্যাম্পাসে কোথাও আতশবাজি বা ফানুস ওড়ানো হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে মোবাইল টিমকে পুরো ক্যাম্পাসে টহল দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহহরীন আমিন ভূইয়া মোনামি বলেন, শোক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের আয়োজন রাখা হয়নি।
 তিনি বলেন, আমরা সামনে আরও অনেক নতুন বছর উদযাপনের সুযোগ পাবো। কিন্তু আজ যাকে হারিয়েছি, তাকে আর ফিরে পাবো না। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এবার কোনো আয়োজন ছিল না।

বন্ধুদের সঙ্গে টিএসসিতে নতুন বছর উদযাপন করা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা আনজুম বলেন, “আজ অনুভূতিটা অন্যরকম। কোনো ভিড় নেই, আইন অমান্য করে আতশবাজি বা ফানুস ওড়ানোও নেই। বন্ধুদের সঙ্গে নিজের মতো করে নতুন বছর উদযাপন করছি। আশা করছি, সামনের বছর আরও বেশি অর্জন আসবে জীবনে।”

 প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলগুলোর গেইট রাত দশটায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। 

তবে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবনগুলো থেকে আতশবাজি ফোটানোর অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী উত্তর ফুলার রোডের একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবনগুলোতে খবর পাঠিয়ে তশবাজি বন্ধের অনুরোধ জানান।

এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করলেও শিক্ষকদের আবাসিক ভবন থেকে আতশবাজি ফোটানো হচ্ছে দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছি। প্রক্টর স্যারকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই আমরা এখানে এসে নিরাপত্তা প্রহরীকে অনুরোধ করেছি।

সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের আবাসিক ভবনে পটকা ফোটানোর কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 তিনি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে গিয়ে সতর্ক করেছি।

এদিকে নববর্ষকে সামনে রেখে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের ইসলামিক কালচারাল ক্লাব। ক্লাবটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় রাত্রিজাগরণ ও সেহরি।

 রাত দুইটায় কিয়ামুল লাইল, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রাত্রিজাগরণ শুরু হয়। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরি খেয়ে এই আয়োজন শেষ হয়। পরদিনের জন্য ইফতারের আয়োজনও রাখা হয়েছে।

 এই আয়োজনে অংশ নিতে আগ্রহীদের গুগল ফর্ম পূরণ করে নির্ধারিত অর্থ দিয়ে আগে থেকেই নিবন্ধন করতে হয়েছে।কালচারাল ক্লাবের উদ্যোক্তা তানজিম মাহমুদ বলেন, নতুন বছর আসা মানে আমাদের জীবন থেকে একটি বছর চলে যাওয়া। আগামী বছর যেন বরকতে ভরপুর হয়—এই কামনায় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেই আমাদের এই আয়োজন। বছরের প্রথম দিন রোজা রেখে আল্লাহর নৈকট্য পাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

 

এম # আর টি এন এন