
বাগেরহাটের হজরত খানজাহানের (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমির একটি কুকুর ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুদিন ধরে ভিডিওটি ঘিরে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। কেউ দাবি করছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনাটি ভিন্ন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দিঘির ঘাটে দাঁড়িয়ে অনেকে কুমির দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় দর্শনার্থীদের মধ্যে ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা চলছিল।
স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওগুলোর বেশির ভাগই ঘটনার একটি অংশবিশেষ। অনেকেই না জেনে বা যাচাই না করেই ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।
মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি ঘটে ৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলে। ওই দিন একটি অসুস্থ কুকুর হঠাৎ করে মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড়ায় এবং তাড়া করে। স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটির আচরণ ছিল অস্বাভাবিক এবং এটি আগে কয়েকটি মুরগিকেও আক্রমণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কুকুরটিকে তাড়ানোর জন্য কয়েকজন লাঠি ছুড়ে মারেন। এতে কুকুরটি দৌড়ে নারীদের ঘাট থেকে প্রধান ঘাটের দিকে চলে যায়। সেখানে গিয়ে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী মো. ফোরকান হাওলাদারকে আঁচড় দেয়।
মো. ফোরকান জানান, তিনি দিঘির পাশে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের সতর্ক করছিলেন যাতে কেউ পানিতে না নামেন। এ সময় কুকুরটি তাকে আক্রমণ করে। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি দিঘির পানিতে পড়ে যায়। ঠিক তখনই একটি কুমির কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নেয়। ভাইরাল ভিডিওতে এই অংশটুকুই দেখা গেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরদিন তিনি বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন এবং টিকা গ্রহণ করেন।
দিঘির পাড়ের দোকানি বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনেও কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয়। পরে কুকুরটি পানিতে পড়ে গেলে কুমির ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে এখন নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) জানান, সম্প্রতি দিঘির কুমিরটি ডিম দিয়েছে, ফলে এটি কিছুটা বেশি হিংস্র আচরণ করছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে কুমিরের কাছ থেকে কোনো প্রাণীকে উদ্ধার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
মাজারের খাদেমরা জানান, বর্তমানে দিঘিতে একটি কুমির রয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত পুরোনো কুমির নয়। ২০০৫ সালে ভারত থেকে এনে দিঘিতে ছাড়া হয়েছিল কুমিরটি, কারণ আগের কুমিরগুলো বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো ঘটনা না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।



