মনপুরা
আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাইনুদ্দিন মাস্টার।ছবি: আরটিএনএন

মনপুরা উপজেলায় ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাইনুদ্দিন মাস্টার। তার এ নিয়োগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাইনুদ্দিন অবৈধভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা-এর ওরিয়েন্ট টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

জানা যায়, একই নিয়োগ পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল নোমান অংশ নেন এবং তিনি প্রথম হন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর প্রভাব খাটিয়ে মাইনুদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও একাধিক জটিলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নোমান মাইনুদ্দিনের নিয়োগ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-এ অভিযোগ করেন। বর্তমানে সেই অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ অবস্থায় গত ৩০ মার্চ মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মুছা তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিলে বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে প্রভাব খাটিয়ে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মাইনুদ্দিন দায়িত্বে থাকলে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ২ জুন মনপুরা উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল বনিকের নির্দেশে তদন্ত করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মত দেন যে, মাইনুদ্দিনকে দায়িত্ব দিলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।