
দুর্নীতির অভিযোগের পর প্রশাসনিক কারণে বদলি হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও নানা ছলে-বলে-কৌশলে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা সমবায় কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন।
এরই মধ্যে তিনি বদলির আদেশ স্থগিত চেয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর বদলির আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দপ্তরের বিভিন্ন লেনদেন ও হিসাব-নিকাশেও তিনি স্বাক্ষর করছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর কাজী বাবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে অধিদপ্তরে। পরে তদন্ত শেষে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে কুষ্টিয়া জেলা সমবায় কার্যালয়ে উপ-সহকারী নিবন্ধক পদে বদলি করা হয়।
এরপর গত ৩০ নভেম্বর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজও দেওয়া হয়। কিন্তু রিলিজ পাওয়ার পরও তিনি নিয়মিতভাবে চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে, কাজী বাবুল হোসেন বদলির আদেশ স্থগিত চেয়ে অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলে-মেয়েরা চুয়াডাঙ্গায় পড়াশোনা করছে এবং সামনে তাদের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর বদলির আদেশ চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। কিন্তু ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হলেও মার্চ মাসেও তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী বাবুল হোসেনের স্ত্রী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ইসলামি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাঁর বড় ছেলে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে কুষ্টিয়া শহরের উপকণ্ঠে একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় হিফজরত এবং মেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। অথচ বদলির আদেশ স্থগিতের আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গায় তাঁর সঙ্গে অবস্থান করছেন।
সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কথা কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক আনিছুর রহমানের। তবে তাকেও এখনো চুয়াডাঙ্গায় যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে কার্যত এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন কাজী বাবুল হোসেন।
এ বিষয়ে কাজী বাবুল হোসেন বলেন, “বদলি হয়েছে, কিন্তু এখনো যোগদান করিনি। তবে দ্রুতই কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ে যোগদান করব।”
অন্যদিকে উপ-সহকারী নিবন্ধক আনিছুর রহমান বলেন, “আমি চুয়াডাঙ্গায় যোগদান করতে প্রস্তুত আছি। তবে অধিদপ্তর থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আদেশ দিলেই যোগদান করব।”



