জীবননগরে কবরস্থানের রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬।
জীবননগরে কবরস্থানের রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬। ছবি: ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরের আড়াইশ শয্যার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জীবননগর থানার মাধবখালী গ্রামের পশ্চিমপাড়া ও খাঁপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে বিরোধের জেরে খাঁপাড়ার মসজিদ ছেড়ে পশ্চিমপাড়ায় নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে দুই পক্ষের কবরস্থান একটি। সম্প্রতি কবরস্থানে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণের সময় খাঁপাড়া মসজিদের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এ নিয়ে সোমবার ইফতারের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন—খানজাহান আলী (৪৫), লিখন (১৮), আশরাফুল (৪২), রোজিনা (৩৮), তৃষ্ণা (৩৩) ও দুর্জয় (২৪)। তাঁদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে খানজাহান আলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে যশোরের আড়াইশ শয্যার হাসপাতালে পাঠান।

আহত লিখনের দাবি, মণ্ডলপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম এবং আতিয়ারের ছেলে আশিক তাঁদের মারধর করেন। অন্যদিকে আহত রোজিনার অভিযোগ, কবরস্থানের গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে খাঁপাড়ার আকুল ও ইসরাফিল তাঁদের ওপর হামলা চালান।

মাধবখালী মণ্ডলপাড়ার বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে মাধবখালী জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম। গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিন মাস আগে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ালে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।