
ভালো জীবনের আশায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মাদারীপুরের তরুণ আলভী খান (২৫)। কিন্তু সেই স্বপ্নই এখন তার পরিবারের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গত ১৮ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ নেই।
বুধবার (২২ এপ্রিল) আলভীর বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যরা তাদের অসহায়ত্বের কথা জানান এবং জড়িত দালালদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের কুন্তিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলভী খানকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখান একটি মানবপাচারকারী চক্র। পরিবারের অভিযোগ, এই চক্রের সদস্য রাতুল হাওলাদার সরাসরি বিমানে ইতালি নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২১ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। পরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।
কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতালির বদলে আলভীকে প্রথমে সৌদি আরব, সেখান থেকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের দাবি। নির্যাতনের অডিও পাঠিয়ে আলভীর পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে তারা ২২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেন।
এরপরও দালালচক্র আরও টাকা দাবি করলে পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৪ এপ্রিল থেকে আলভীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা পরিবার।
আলভীর বাবা এমদাদ হোসেন খান বলেন, ছেলেকে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করা হয়েছে। ‘ওকে লিবিয়ায় বন্দি করে রেখে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন ১৮ দিন ধরে কোনো খবর নেই—বেঁচে আছে কি না তাও জানি না,’—কাঁদতে কাঁদতে বলেন তিনি।
এ ঘটনায় আলভীর বাবা মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত রাতুল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
পরিবারের একটাই দাবি—আলভীকে জীবিত ফিরে পাওয়া এবং এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।



