জুলাই কন্যাদের’ অবদান ও করণীয় নিয়ে ঢাবিতে আলোচনা সভা
জুলাই কন্যাদের’ অবদান ও করণীয় নিয়ে ঢাবিতে আলোচনা সভা।ছবি: আরটিএনএন

“জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়: জুলাই কন্যাদের অবদান এবং করণীয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের অর্জন সংরক্ষণ, সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ। 

এছাড়া বক্তব্য দেন সামন্ত শারমিন (যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি), ফাতেমা তাসনিম জুমা (ইনকিলাব মঞ্চ), সামিয়া মাসুদ মম (জিএস, শামসুন্নাহার হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং জুলাই কন্যা নীলা আফরোজ।

প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জন টিকিয়ে রাখতে হলে সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে এবং জনআকাঙ্ক্ষার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামন্ত শারমিন বলেন, জুলাই কন্যারা আন্দোলনের অন্যতম নির্ধারক শক্তি। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তিনি নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে আরও অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান।

ইনকিলাব মঞ্চের ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, জুলাই কন্যাদের আত্মত্যাগের পরও সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি নতুন প্রজন্মকে সচেতন থাকার এবং দখলদার রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সামিয়া মাসুদ মম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুনরায় সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহাবস্থানের ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই কন্যা নীলা আফরোজ বলেন, তাদের আত্মত্যাগ শুধু স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে কাজে লাগাতে হবে। আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ প্রিন্স জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত এবং নারী নেতৃত্ব শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।