
বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে ধারণ, লালন ও বিস্তারের প্রত্যয়ে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী লোকমেলা ও লোকসংগীত উৎসব। সার্ক কালচারাল সোসাইটি দিনাজপুর-এর আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে এই বর্ণিল উৎসব অনুষ্ঠিত হয় প্রাকৃতিক পরিবেশে, শহর থেকে দূরের এক নিভৃত গ্রামীণ এলাকায়।
গত ০৫ বৈশাখ ১৪৩৩ (শনিবার) বোচাগঞ্জ উপজেলা-র ৪ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের বড়ইয়া নয়াহাট বটতলায় এ আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী উৎসবে গ্রামবাংলার স্বকীয় সংস্কৃতির নানা উপাদান তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে লোকগান, বিয়ের গীত, গ্রামীণ বিয়ের লোকাচার, মুখোশ নৃত্য, ছাম গাহিনসহ বিভিন্ন পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি ঢেঁকি, কুলা, মাথাল, শিকা, রঙিন মাটির হাঁড়ি, লাঙল ও পাটের মাকুসহ নানা লোকজ সামগ্রীর প্রদর্শনী ও ব্যবহার দেখানো হয়। ঢাকের তালে মুখোশ নৃত্য পরিবেশন করেন বড়ইয়া গ্রামের বাঁধন দেবশর্মা ও তার দল।

স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষক সুব্রত কুমার দেবশর্মার নেতৃত্বে একদল শিল্পী লোকগান ও লোকনৃত্য পরিবেশন করেন। এতে অংশ নেন চন্দনা রানী শর্মা, শিউলি রানী, উদাসী গণেশ, সমাপ্তি রানী, ডালিম কুমার, রাবেয়া বসরী, বিশ্বনাথ রায়, সুরঞ্জিত রায়সহ আরও অনেকে।
উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক উত্তর বাংলার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিউর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক জিনাত রহমান, শব্দশর সাহিত্য সংগঠনের সভাপতি বাবুল চৌধুরী, কাহারোল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী, কবি ও গবেষক লুৎফর রহমান, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের বিভাগীয় প্রধান আলী ছায়েদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা।
ঐতিহ্যবাহী নয়াহাট এলাকা একসময় প্রাণবন্ত গ্রামীণ হাট হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে হাটটির কার্যক্রম অনেকটাই কমে গেলেও শতবর্ষী বটগাছকে ঘিরে এই উৎসব নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। হাটে বসে চুড়ি-ফিতা, পাপড়-বড়া, চা-বিস্কুট, তরমুজ, শসা, ঝালমুড়ি, খেলনা, মাটির সামগ্রী ও নানা ধরনের মিষ্টির দোকান।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম বলেন, দেশের লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই এ আয়োজন। সভাপতি অধ্যাপক বিধান দত্ত জানান, শহরকেন্দ্রিক মেলার বাইরে গ্রামীণ পরিবেশে এমন আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
.jpg)
দিনব্যাপী উৎসব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের কলাপাতায় পরিবেশিত দেশীয় খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে নতুন করে তুলে ধরার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে।



