আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজারে দোকানঘর নির্মাণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ ঘণ্টাব্যাপী চললে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজারে একটি দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধে একদিকে ছিলেন বাঙ্গরা বাজারের সভাপতি শামীম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আবু কাউছার, জিনদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজনু সরকার। অন্যদিকে ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি এবং উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ এপ্রিল শফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আবু কাউছারকে হুমকি দেন। এর জের ধরে পরদিন সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বাঙ্গরা বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।

সংঘর্ষে চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, তার ভাই শফিকুল ইসলাম, তুহিন ও রুবেলসহ কয়েকজন আহত হন। অপরপক্ষে শামীম, তার ছেলে শান্ত, মিজানুর রহমান মজনুসহ আরও অনেকে আহত হন। আহতদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত কয়েকজনকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তার ভাষায়, দোকানঘরটি তার লিজকৃত জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে প্রতিপক্ষ সরকারি দলের সমর্থক হওয়ায় মব সৃষ্টি করে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়।

অন্যদিকে যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আবু কাউছার অভিযোগ করে বলেন, সরকারি জায়গায় চেয়ারম্যান রবি দোকান নির্মাণ করতে গেলে বাজার কমিটির সভাপতি শামীম বাধা দেন। এ সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তেজিত শামীমের সমর্থকরা চেয়ারম্যান রবিসহ তার দুই ভাইকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।