২০ বছরেও চালু হয়নি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, ভগ্নপ্রায় ভবনটি,
ধ্বংস প্রায় নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি।ছবি: আরটিএনএন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিনাহালা এলাকায় নির্মিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচার একাডেমি ও শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ভবনটি দীর্ঘদিনের অবহেলায় এখন পরিণত হয়েছে প্রায় পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষে। সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা এই স্থাপনাটি আজ সময়ের সাথে সাথে দায়িত্বহীনতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নির্মাণের দুই যুগ পার হলেও চালু হয়নি কোনো কার্যক্রম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই একাডেমি ও হোস্টেল ভবনটি নির্মাণ করে। এর আগে ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে চিনাহালা মৌজায় শতীষ চন্দ্র মল্লিক গংয়ের মালিকানাধীন একাধিক দাগ থেকে প্রায় এক একর ৮৮ শতক (প্রায় ২৩.৫০ কাঠা) ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়।

ভূমিদাতা শতীষ চন্দ্র মল্লিক জানান, তাদের মালিকানাধীন জমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে সাব-কাওলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটিতে পাকা এঙ্গেলসেটের ওপর টিনশেড ঘর তৈরি করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অযত্নে ভবনের দেয়াল জীর্ণ হয়ে গেছে, চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। টিন, এঙ্গেল, গ্রিলসহ মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী অনেক আগেই দুর্বৃত্তরা খুলে নিয়ে গেছে। জানালা-দরজাহীন এই ভবন এখন কেবল ভগ্নপ্রায় কাঠামো। নির্মাণের পর থেকেই কোনো কার্যক্রম চালু না হওয়ায় সরকারি বিনিয়োগ কার্যত অপচয়ে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, একাডেমিটি চালু হলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় ব্যাপকভাবে উপকৃত হতো। কিন্তু বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকায় এটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুকুল স্নাল বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মিত এই একাডেমির এমন পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সংস্কার ও কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, এটি শুধু একটি অবকাঠামোর ক্ষয় নয়, বরং একটি সম্ভাবনার অপচয়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়া উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও শিক্ষার বিকাশে যে উদ্যোগটি একসময় আশার আলো দেখিয়েছিল, তা আজ অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগই পারে এই স্থাপনাকে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।