
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির লাশ দাফন করা হবে নাকি সৎকার করা হবে—এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ লাশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন কাজী সোহাগ।
পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে একটি ছেলে রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, তার মা ওই আশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। মৃত্যুর পর স্ত্রী-সন্তানকে না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তরআমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী ও মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে প্রতিবাদ জানান। তারা মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফনের দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং সেই বিবেচনায় দাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি তার ছেলে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন—এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিহতের স্ত্রী-সন্তান প্রশ্ন তুলেছেন। এ কারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।



