যশোরে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড, বজ্রপাতে দুজন নিহত
বজ্রপাতে দুজন নিহত।ছবি: আরটিএনএন

যশোরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এ সময় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মণিরামপুর ও চৌগাছা উপজেলায় একজন করে নিহত হন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে । 

ঝড়ের সময় বজ্রপাতে মশ্বিমনগর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের বাবর আলী সরদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার পারখাজুরা বাজার এলাকা। সেখানে বেশ কিছু দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। মাঠে থাকা পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল মালেক ও রফিকুল ইসলাম বলেন, ধান কাটার আগমুহূর্তে এই দুর্যোগ তাঁদের অপূরণীয় ক্ষতি করে দিল।

চৌগাছা উপজেলায় ভয়াবহ বজ্রপাতে আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আবু তাহের নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে একটি বিশাল কড়ই গাছে বজ্রপাত হলে সেটি মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। গাছটির উচ্চতা প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ ফুট বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বজ্রপাতের সময় গাছের অংশ ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে। ঘটনাটি দেখতে সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

ঝিকরগাছা উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বাঁকড়া বাজারসংলগ্ন গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, আলিপুর গ্রামের ইবাদ আলী সরদারের ঘরের ওপর একটি বড় নারিকেলগাছ উপড়ে পড়ে ঘরটি দুমড়েমুচড়ে যায়। তবে এতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি; অল্পের জন্য রক্ষা পান পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া বাঁকড়া বাজার হাইস্কুল সড়কের চা বিক্রেতা খোকনের দোকানের চাল উড়ে গিয়ে মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বাঁকড়া বাজার–দিগদানা সড়কের পাশে থাকা চারটি বড় গাছ উপড়ে ধানের ক্ষেতে পড়ে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ার সময় সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় সেখানে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

কেশবপুর উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে মৌসুমি ফলসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে, অনেক ঘরের চালা ভেঙে পড়েছে এবং বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অনেক পরিবারের রান্নাঘর ও বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে। আম ও লিচুসহ মৌসুমি ফলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি ভেঙে পড়েছে।

এদিকে ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় ব্যাপক কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবার জানায়, হঠাৎ এমন দুর্যোগে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কেশবপুর জোনাল অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, যশোর থেকে আসা মেইন লাইনসহ উপজেলার অভ্যন্তরে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ও খুঁটি ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে।