ধর্ষণের ভয়ংকর ফাঁদ, টার্গেট ১৮-২০ বছর বয়সী তরুণী
অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম রাব্বি।ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে তরুণীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (২৫) নামের ওই ব্যক্তি গত দুই মাসে অন্তত ১৩ জন তরুণীর সঙ্গে একই কৌশলে অপরাধ করেছে বলে স্বীকার করেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। 

পুলিশ জানায়, নারী কণ্ঠে ফেক আইডি ব্যবহার করে এবং উপহার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সে মূলত স্কুল-কলেজ ও তরুণ বয়সী মেয়েদের টার্গেট করত।

তদন্ত অনুযায়ী, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয়ে ভিকটিমদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হতো। পরে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে উপহার বা দেখা করার অজুহাতে যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, ওই ভিডিও ব্যবহার করে পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং অর্থ আদায়ও করা হতো।

এক ঘটনায় দেখা যায়, এক ভুক্তভোগীর ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আরও মেয়েদের টার্গেট করা হয়। ডেলিভারি বা পারিবারিক সাক্ষাতের কথা বলে একাধিক তরুণীকে একই স্থানে ডেকে এনে নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আরেক ঘটনায় একজনকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও তার মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করার তথ্যও জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে শনাক্ত করে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় দনিয়া কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে কয়েকজন ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সব ঘটনাই একই ধরনের। ভুক্তভোগীদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে জানানো হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ আরও বলছে, ঘটনার পরিধি আরও বাড়তে পারে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।