
পঞ্চগড় সদর উপজেলা-এর হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঢাঙ্গীপুকুরী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান হয়নি। এমনকি এ সময় শিক্ষার্থীদের হাজিরাও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে শিক্ষকরা একাট্টা হয়ে ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। এতে পুরো বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা যে যার মতো সময় পার করছে। কেউ ক্লাসরুমে বসে, কেউ বারান্দায় ঘোরাফেরা করছে, আবার অনেকে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত। পুরো সময়জুড়ে শিক্ষার্থীদের তদারকিতে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছিল না।
এদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানকে তার কক্ষে একাই বসে থাকতে দেখা যায়। অপরদিকে অন্যান্য শিক্ষকরা পাশের কক্ষে অবস্থান করে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তা চালুর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সহকারী শিক্ষক রতন রায়ের দাদি মারা যাওয়ার তিন দিন পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার বাড়িতে আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন চলছিল। এ কারণে তিনি টিফিনের পর ছুটির আবেদন করেন। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার আবেদন মঞ্জুর করেননি। এই ঘটনার জের ধরেই শিক্ষকরা একযোগে ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক রতন রায় বলেন, ছুটি চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এরপর তিনি লিখিত আবেদন দিয়ে বাড়িতে চলে যান। পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই স্বেচ্ছাচারিতা দেখিয়ে আসছেন। তার আচরণে কেউ সন্তুষ্ট নন।
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, শিক্ষকেরা কেন ক্লাসে যাচ্ছেন না, তা তিনি জানেন না এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়টির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।



