দামুড়হুদায় জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৫, সারাদেশ, জমি, সংঘর্ষ, আহত, মাথা ফাটা, মাথায় সেলাই, শেলাই,
আহতদের একজন।ছবি: আরটিএনএন

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দামুড়হুদা উপজেলার ঝাঝাডাঙ্গা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ঝাঝাডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের দামুড়হুদার চিৎলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝাঝাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান ও প্রতিপক্ষ বকুল-ইসমাইল গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় আহতরা হলেন—আব্দুল মান্নান (৫০), তার ছেলে সানোয়ার (২৫) ও আনোয়ার (৩০), একই গ্রামের নফর মণ্ডলের ছেলে নুর আলম (৪৫) এবং নুর আলমের বাবা আসোশ (৬৩)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। আহত আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বকুল ও ইসমাইল গং তাদের ভ্যান কেড়ে নেয়।

প্রতিবাদ করলে তারা মারধর করে এবং হুমকি দেয়। পরে বাড়িতে ফিরে ছেলেদের নিয়ে থানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। দর্শনা থানায় যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। রড, লাঠি ও সোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তাদের গুরুতর আহত করা হয়।

তিনি আরও জানান, তার এক ছেলে এখনো অচেতন অবস্থায় রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরেক ছেলের মাথা ফেটে গেছে। নুর আলমের হাত ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, বকুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকলেও মান্নান পক্ষই আগে আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তাদের পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ করেই দুই পক্ষের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি বেধে যায়, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।