
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে র্যাবিস ভাইরাসের ভ্যাক্সিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ভ্যাক্সিন না পেয়ে কেউ ফিরছেন খালি হাতে, আবার কেউ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত ছয় মাস ধরে ভ্যাক্সিন সংকটে ভূগছে রামেক। দিনে প্রায় ২৮০–৩২০ জন মানুষ ভ্যাক্সিন নিতে আসলেও পাচ্ছেন মাত্র ৪০ জন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের গুরুত্বহীনতার কারণে এমন সংকট তৈরি হয়েছে।
ভ্যাক্সিন নিতে আসা একজন ট্রাক্টর চালক বলেন, ‘আমি তানোর থেকে কাজ বাদ দিয়ে ২৫০ টাকা খরচ করে এসেছি ভ্যাক্সিন দিতে। কিন্তু আসার পর জানালেন, ভ্যাক্সিন নেই। প্রথম ৪০ জনের মধ্যে না পড়লে আমাকে কালকে আবার আসতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে দিতে হচ্ছে।’
বিড়ালের আঁচড়ে আহত খন্দকার ফারজানা রহমান নায়না বলেন, ‘বিড়াল আঁচড়ে দেয়ায় রামেকে ভ্যাক্সিন নিতে আসি। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে চারজন মিলে একটি ভ্যাক্সিন কিনে এনেছি। বেশ ভোগান্তিতে পড়েছি। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা আরও কঠিন। সরকার দ্রুত ভ্যাক্সিন সরবরাহের ব্যবস্থা করুন।’
কর্তব্যরত একজন নার্স জানান, ‘দৈনিক ৪০ জনের বেশি টিকা দেওয়া হচ্ছে না। যারা আসছেন, বাইরের ভ্যাক্সিন আনলে আমরা তা প্রয়োগ করি। বিস্তারিত কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।’
রামেক হাসপাতালের ইএমও ইনচার্জ ও মিডিয়া মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘গত ছয় মাস থেকে সরকারি সরবরাহ বন্ধ। আমরা লোকালি কিছু ভ্যাক্সিন ক্রয় করেছি, সেটিও প্রায় শেষ। এখন প্রতিদিন সকালে প্রথম ৪০ জন আক্রান্তকে ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে। সংকটের কারণে সবাইকে দিতে পারছি না। আমাদের কাছে থাকা ভ্যাক্সিন দিয়ে আরও তিন সপ্তাহ এভাবে চলতে পারি।’
তিনি আরও জানান, ‘মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু সদুত্তর পাইনি। কবে নাগাদ সংকট সমাধান হবে তা আমরা জানি না। তবে লোকালি ক্রয় করে যতটুকু সম্ভব র্যাবিস প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে তিনি অনুরোধ করেন, ‘পূর্বে সিটি কর্পোরেশন কুকুর-বিড়াল নিধন ও ভ্যাক্সিন কার্যক্রম পরিচালনা করতো, যা বর্তমানে বন্ধ। আমরা অনুরোধ করব, তারা পুনরায় এ কাজ শুরু করুন। এতে অনেকাংশে র্যাবিস প্রতিরোধ সম্ভব।’
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালগুলো নিজস্ব খরচে র্যাবিস ভ্যাক্সিন দিচ্ছে। চাহিদা বেশি থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘বেওয়ারিশ পশুদের ভ্যাক্সিনের আওতায় আনা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’



