
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র সামনে এনেছে তদন্ত কমিটি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এস এম আকাশ আহবায়কসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির পরিচালিত তদন্ত ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত বছরের শেষ ছয় মাসে আপ্যায়ন খাতে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৪০টাকা, ষ্টেশনারী খাতে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৯৮০টাকা, গাড়ি মেরামত খাতে এক লাখ ৩৯ হাজার ৭১৫টাকা ও টাকা আদায়ের কমিশন বাবদ ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৭০ টাকা ব্যয় করেছেন।
অর্থ প্রদান সংক্রান্ত বিধানের ১৭,১৮ ও ১৯ ধারা ভঙ্গ করে কোন প্রকার বিল ভাউচার এবং পরিষদের অনুমোদন ছাড়া টাকা উত্তোলন করেন তিনি। ওই ৬ মাসে ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে মর্মে পরিষদের ক্যাশ বহিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ (হিসাব রক্ষণ এবং নিরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১২ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের হিসাব সংক্রান্ত বিধান অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিপালন এবং সকল প্রকার ব্যয়ের ক্ষেত্রে হিসাব রেজিস্টারে রক্ষণাবেক্ষণ করার নিয়ম থাকলেওে এমন কোন রেজিস্টার নেই এবং একই বিধিমালার তৃতীয় অধ্যায়ের অর্থ প্রদান সংক্রান্ত বিধানের ১৭, ১৮, ও ১৯ অনুচ্ছেদের বিধান ভঙ্গ করে পরিষদের কোন প্রকার অনুমোদন ও প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন জনকে চিকিৎসা সাহায্যের নামে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
এছাড়াও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দণ্ডবিধি ১৯৬০ এর ১৯৮ ধারা অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত। ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন বসতবাড়ি কর আদায় বাবদ আদায়কারীর কমিশন প্রদানে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। কর হিসেবে আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে আদায়কারীর কমিশন হিসেবে বেশী অর্থ প্রদান করা হয়েছে মর্মে ক্যাশ বহিতে দেখা যায়।
এর আগে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসক বরাবরে ইউপি সদস্য লতিফুর রহমানসহ পরিষদের ৭ জন ইউপি সদস্যসহ আরো দুইটি লিখিত অভিযোগ দেয় চেয়ারম্যানের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে।তার প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) তদন্ত করে ১৮ মে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন দেন।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।



