জ্বালানি তেল পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির কড়া অবস্থান, সারাদেশ, বিজিবি, তেল, জ্বালানি,
প্রেস ব্রিফিং দিচ্চে বিজিবি।ছবি: আরটিএনএন

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় যশোর সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে যাতে কোনো অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জ্বালানি ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, সীমান্ত ও নৌপথে পাচার বন্ধ করা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে কাজ করছে বিজিবি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর রিজিয়নের আওতাধীন এলাকায় ইতোমধ্যে ১৯২টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান, প্রায় ২০০০টির কাছাকাছি মোবাইল টহল, ১১০০’র বেশি চেকপোস্ট পরিচালনা এবং ২৯টি ফিলিং স্টেশন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় এক হাজার মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।

নদীপথেও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্পিডবোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল পরিচালনার ফলে সীমান্তবর্তী জলপথেও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় সারাদেশের ৯টি জেলার ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে ইতোমধ্যে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্তে এই নজরদারি ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।