শিলাবৃষ্টি
শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।ছবি: আরটিএনএন

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় হঠাৎ করে নেমে আসা মাত্র ৪/৫ মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, শিলার আকার ছিল বেশ বড়, যা মাত্র কয়েক মিনিটেই কৃষকের স্বপ্নের ফসলের ক্ষেত লন্ডভন্ড করে দেয়। 

এসময় প্রচন্ড শিলাবৃষ্টির তান্ডবে উপজেলার মির্জাপুর, তোড়িয়া, ধামোর, আলোয়াখোয়া, রাধানগর ও বলরামপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েক জায়গায় ঘরের টিনের ছাউনি ফুটো হয়ে গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- মরিচ, ভূট্রা, বোরো ধান, গম ও শসাসহ সবজি ক্ষেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উপজেলার সুখাতি গ্রামের কৃষক মোঃ খাদেমুল ইসলাম জানান, ফসল কাটার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক হোসেন আলী বলেন, মাত্র ৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে আমার পুরো বছরের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেল। এখন কীভাবে সংসার চালাবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আমার মরিচ ও ভুট্টা ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। মাটির সাথে মিশে গেছে সব।

এছাড়াও মাইক্রো ড্রাইভার আলমগীর হোসেন জানান, শিলাবৃষ্টির কারণে তার শোয়ার ঘরের টিনের ছাউনি ফুটো হয়ে গেছে। নলপুখুরী গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্ত হুসনেয়ারা বেগম জানান, তার কাঁচা ঘরের টিন ফুটো হয়ে সারারাত বৃষ্টির পানিতে ঘরের সব জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। 

এদিকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক জায়গায় গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সর্দারপাড়া গ্রামের মোজাহারুল ইসলাম জানান, তার ৪টি ঘরের সব টিন ফুটো হয়ে গেছে। রাতে শোয়ার ব্যবস্থা না থাকায় গোয়াল ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাত কাটিয়েছি। 

আটোয়ারী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোস্তাক আহমেদ জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমাদের কৃষি উপ-সহকারীরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। 

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী জানান, "রাতেই কিছু কিছু এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। 

এই আকস্মিক শিলাবৃষ্টি এলাকার কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।