
পবিত্র রমজান মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বাদ মাগরিব যশোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনটি ছিল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে ভরপুর।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝুমঝুমপুর ফজলুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম ও বায়তুস সালাম জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা ফুরকান আহমেদ।
তিনি তাঁর বক্তব্যে পবিত্র শবে কদরের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, শবে কদর এমন একটি মহিমান্বিত রজনী, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই রাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শবে কদর কেবল ইবাদতের রাতই নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার এক অনন্য সুযোগ। সমাজে ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এই রাতের শিক্ষা আমাদের জীবনে ধারণ করতে হবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মঈনুদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র কোরআন এই মহিমান্বিত রাতেই নাজিল হয়েছে। তাই এই রাত মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তিনি মুসল্লিদের রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতকে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম। তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সবসময় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতার চর্চা জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পবিত্র শবে কদরের এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ইসলামের শিক্ষা, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দেশের অগ্রগতি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে মসজিদের মুসল্লি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।



