
লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার একমাত্র উন্মুক্ত স্থান হিসেবে পরিচিত চন্দ্রপুর পরিষদ মাঠ এখন দখল আর অব্যবস্থাপনার চাপে সংকুচিত। প্রায় ১২০ শতক সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠা এই মাঠটি চন্দ্রপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশেই অবস্থিত।
একসময় বিকেল হলেই এখানে ফুটবল-ক্রিকেটে মুখর থাকত চারপাশ; স্থানীয় টুর্নামেন্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক আয়োজনের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই মাঠ।
কিন্তু বর্তমানে মাঠের চিত্র ভিন্ন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে ধাপে ধাপে মাঠের বড় একটি অংশ দখল করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তর পাশে গড়ে উঠেছে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি দোকান ও বসতঘর। এতে খেলার জায়গা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মাঠ রক্ষায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় তরুণরা। তাঁরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে মাঠকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা এসব দোকান মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি হয়েছে। যে জায়গায় একসময় শিশুরা খেলাধুলা করত, সেখানে এখন সারি সারি টিন ও পাকা স্থাপনা। পাশাপাশি হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মাঠের ভেতরেই। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
কিছু কিশোর এখনো মাঠে খেলতে গেলে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাদের অভিযোগ, বল পাশের দোকান বা ঘরে চলে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়।
সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় মাদকপ্রবণতা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, খেলাধুলার সুযোগ কমে গেলে তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দ্রুত মাঠ দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীদ ইশরাক বলেন, প্রাথমিকভাবে মাঠসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেখানে ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ দোকান চিহ্নিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান জানান, মাঠ দখলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।



