
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স রাখা এবং ভোট গণনার সময় ভোটারদের শনাক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা সেন্টু মিয়া।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যারা হিন্দু ভাইয়েরা আছে তাদের বাক্স আলাদা থাকবে। কে কয়টা ভোট দেন, আর কে কয়টা দিলেন না, ওইটা টোকা দিলেই কিন্তু গণনার সময় বের হয়ে যাবে। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও যন্ত্রাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেন্টু মোল্লা। ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, উঠান বৈঠকে সেন্টু মিয়া বলেন, যারা হিন্দু ভাইয়েরা আছে, তাদের বাক্সও কিন্তু আলাদা থাকবে। তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার সময় প্রতিটি ব্যালট বাক্সে নজরদারি করা হবে। তার ভাষায়, কে কয়টা ভোট দিলেন আর কে কয়টা দিলেন না, ওটা টোকা দিলেই কিন্তু গণনার সময় বের হয়ে যাবে। এভাবে কারা ভোট দিচ্ছেন আর কারা দিচ্ছেন না, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা শুরু থেকেই সচেতন হয়ে যান। আপনাদের ভোট কীভাবে কালেকশন করা যায়। মূলত ভোটের ফলাফল এবং ভোটারদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যেই এ ধরনের বিতর্কিত কৌশলের কথা বলেন তিনি।
ভাইরাল ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত নবাবগঞ্জ উপজেলার হিন্দু জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত যন্ত্রাইল ইউনিয়নে ওই উঠান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সেন্টু মিয়া হিন্দু জনগোষ্ঠির উদ্দেশে গুণে গুণে ভোট নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।
তিনি বলেন, আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে খন্দকার আবু আশফাকের ভোট কালেকশন করবেন। কে কয়টা ভোট দেন আর কে কয়টা দিলেন না, ওইটা টোকা দিলেই গণনার সময় বের হয়ে যাবে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ওই বিএনপি নেতা। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার দিলরুবা ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



